Saturday, 2 January 2016

সবুজ আমিষের উৎসঃ স্পিরুলিনা

নিরামিষভোজীদের দুঃখ একটাই, তারা যতই শাকসবজি খান না কেন, তা থেকে প্রয়োজনীয় আমিষ পাওয়াটা দুরূহ। অথচ শরীরের কোষ গঠন এবং ক্ষয় পূরণের জন্য আমিষ যে ভীষণ জরুরি।

এসব দরকারি আমিষ পাওয়া যায় সাধারনত মাছ-মাংস অর্থাৎ এমন সব খাবার যা থেকে দূরে থাকেন নিরামিষভোজীরা। তাদের খাবারে আমিষের এই অভাব দূর করতে পারে স্পিরুলিনা, কারন সবুজ রঙের এই খাবারটিতে আছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন।

স্পিরুলিনা জিনিসটা কি?
সহজ ভাষায়, এটি একটি শ্যাওলা। নীলচে-সবুজ এই এককোষী শ্যাওলাটি দেখতে প্যাঁচানো (spiral) যা থেকে এর নাম হয়েছে স্পিরুলিনা। এর গন্ধ এবং স্বাদ অনেকটাই sea weed বা ভক্ষণযোগ্য সামুদ্রিক শৈবালের মত।

দূষণমুক্ত এবং প্রচুর আলোবাতাস পায় এমন মিঠাপানির উৎসগুলোতে জন্মায় এই শ্যাওলাটি। এই বিশ্রী সবুজ শ্যাওলাটি কিন্তু অনেক উপকারী। প্রতিদিনকার খাদ্যের পরিপূরক হিসেবে স্পিরুলিনা ব্যাবহার হয়ে আসছে অনেক জনগোষ্ঠীতেই।

মূলত ১৯৭০ সাল থেকে স্পিরুলিনার গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষ জানা শুরু করেছে এবং পুষ্টির উৎস হিসেবে ব্যাপকভাবে একে ব্যাবহার করা শুরু করেছে।

স্পিরুলিনার গুণাগুণঃ
স্পিরুলিনায় আছে প্রচুর পরিমানে উদ্ভিজ্জ আমিষ, ৬০-৬৩% যা কিনা মাছ বা মাংসের চাইতে ৩-৪ গুণ বেশি। এছাড়াও আছে এমন সব ভিটামিন, মিনারেল এবং বেটা-ক্যারোটিন, যা নিরামিষাশীদের পক্ষে পাওয়া কঠিন।

এসব উপাদানের আছে সুস্বাস্থ্য গঠন সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ক্ষমতা।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে স্পিরুলিনাঃ
স্পিরুলিনার অন্যতম বিশিষ্ট হল এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে বেটা-ক্যারোটিন। এই উপাদানগুলো সারা শরীরে ছড়িয়ে গিয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর সুরক্ষা ব্যাবস্থা গড়ে তোলে, যার ফলে ক্যান্সার থেকে শরীর থাকে নিরাপদ।

কৃত্রিম বেটা-ক্যারোটিনের চাইতে এই প্রাকৃতিক বেটা-ক্যারোটিন অনেক বেশি নিরাপদ এবং কার্যকর।

কমিয়ে আনতে পারে বার্ধক্যের হারঃ
গাজর কমিয়ে আনতে পারে বার্ধক্যের হার, এটা জানেন স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই এবং তাদের প্রতিদিনের মেনুতে থাকে টাটকা গাজর অথবা গাজরের কোন রেসিপি।

অথচ স্পিরুলিনায় থাকে গাজরের চাইতে ১০ গুণ বেশি বেটা-ক্যারোটিন যা কিনা বার্ধক্য কমিয়ে আনার অন্যতম হাতিয়ার। ভিটামিন বি-১২ পাওয়ার সর্বোত্তম প্রাকৃতিক উৎস হল এই স্পিরুলিনা, যা দেহের কোষ-কলা এবং স্নায়ুকে সুস্থ রাখে।

দেহকোষগুলোকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে স্পিরুলিনা।

পরিপূর্ণ আমিষের উৎসঃ
স্পিরুলিনার প্রায় অর্ধেকটাই আমিষ। আমিষ তৈরি হয় এমিনো এসিড দিয়ে এবং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব কয়টি এমিনো এসিড(২২ টি) এর সব কয়টিই আছে স্পিরুলিনায়।

তাই গুরুপাক মাছ-মাংস খাওয়ার চাইতে শুধুমাত্র স্পিরুলিনা খেয়েই আমিষের সবটা অভাব মেটানো সম্ভব। স্পিরুলিনায় যে আমিষ আছে তা লঘুপাক, তাই পরিপাকতন্ত্রও থাকে সুস্থ। দিনে মাত্র ১০ গ্রাম স্পিরুলিনা খেয়ে দৈনিক আমিষ চাহিদার ৭০% মেটানো সম্ভব।

দিতে পারে অদম্য শক্তিঃ
স্পিরুলিনার অসংখ্য পুষ্টি উপাদান শরীরকে রাখে সুস্থ এবং সহজে হজম করা যায় বলে শরীরে এই উপাদানগুলো শোষিতও হয় তাড়াতাড়ি। পেশিকলা গঠনে এটি রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।

এছাড়াও এটি শরীর থেকে বের করে দেয় দিনের পর দিন জমে ওঠা ক্ষতিকর সব টক্সিন। এটি পরিশ্রম করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ওজনও রাখে নিয়ন্ত্রনে।

কিভাবে খাবেনঃ
স্পিরুলিনা পাওয়া যায় ট্যাবলেট এবং গুঁড়ো হিসেবে। স্পিরুলিনার গুঁড়ো পানিতে অথবা জুসের সাথে গুলে খেতে পারেন। ট্যাবলেট খেতে পারেন দিনে ৪-৬ টা। তবে আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

স্বাস্থ্য ডেস্ক

আয়রনের ১০টি চমৎকার উৎস

অন্য সব খনিজ উপাদানের মত আয়রনের ঘাটতিও আমাদের দেহের নানান রকম অসুখের কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে। গর্ভাবস্থা থেকে শিশুর বৃদ্ধি, কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক লোকের সুস্থতা, সবেতেই আয়রনের পরিমান তুলনামুলকভাবে কম দরকার হলেও দেহের সুস্থতায় এর ভুমিকা কিন্তু বিশাল।

তাই আসুন একটু জেনে রাখা যাক আমাদের দেহে পর্যাপ্ত পরিমানে আয়রন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এমন কিছু খাদ্য উপাদানের নাম যা কিনা সহজ লভ্য ও উপাদেয়।

১)যকৃত-
যকৃত আয়রনের উৎস গুলির মধ্যে একটি প্রধান সুপরিচিত নাম। অনিরামিষাশীদের জন্য হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখার সবচাইতে ভাল উপায় হল খাদ্যতালিকায় যকৃত রাখা। সাধারনত মুরগির যকৃতের প্রতি ১০০ গ্রামে ৯ মিলিগ্রাম পরিমান আয়রন থাকে। তবে গরুর যকৃতে অন্য প্রানীর যকৃতের তুলনায় কম কোলেস্টেরল কিন্তু উচ্চ মাত্রার আয়রন রয়েছে ।

২)সীফুড-
আপনি যদি মাছ পছন্দ করে থাকেন তবে সুখবর আছে আপনার জন্য। কারন সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ শুধুমাত্র যে ওমেগা 3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ তাই নয়, বরং আয়রনের একটি খুব ভাল উৎস।

৩)গরুর মাংস-
লাল মাংস আয়রনের অন্যতম ভাল উৎস,কিন্তু তা চর্বি ছাড়া হতে হবে। তাই এজন্য গ্রাউন্ড বিফ একেবারে উপযুক্ত। গ্রাউন্ড বিফ এর প্রতি ৮৫ গ্রামে ২.১ মিলিগ্রাম আয়রন আছে।

৪)চিকেন ব্রেস্ট-
মুরগীর বুকের মাংসের প্রতি ১০০ গ্রামে ০.৭ মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া যায়। তাই অনিরামিষাশীদের অস্থি মজ্জা, যকৃত, মুরগির মাংস এবং চর্বি ছাড়া লাল মাংস হিমোগ্লোবিন বজায় রাখার সবচাইতে ভালো উৎস।

৫)ব্রাউন রাইস-
ব্রাউন রাইস একুশ শতকের অন্যতম যুগান্তকারী আবিস্কার। এটা ওজন কমানো থেকে শুরু করে কোলেস্টেরল কমানো এমনকি হিমোগ্লোবিন এর উৎস হিসেব এর জুড়িমেলা ভার। এছাড়াও এর আরও অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই।

৬)কুমড়ো বীজ-
কুমড়ো বীজের ১০০ গ্রামে ১৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে যা একজনের প্রতিদিনের প্রায় ৮৩ শতাংশ আয়রনের চাহিদা মেটায়। এছাড়াও কুমড়ো বীজ ওমেগা 3 ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্য একটি ভাল উৎস, যা কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে।

৭)শস্য দানা-
গোটা শস্য দানা হজম, ওজন হ্রাস, এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। আর ভাল আয়রনের উৎস তো বটেই। গম,বার্লি, ওট, ইত্যাদি খাবার তালিকায় রাখুন, সুস্থ থাকুন।

৮)ডার্ক চকলেট-
আপনি যদি চকলেটপ্রেমী হয়ে থাকেন, তবে ৮০শতাংশ ডার্ক চকলেট খান বেশি করে। ৮০শতাংশ ডার্ক চকলেটএর প্রতি ১০০ গ্রামে পাবেন ১৭ মিলিগ্রাম আয়রন।

৯)ডাল শস্য-
প্রতি ১০০গ্রাম ডাল আপনি পাবেন প্রায় ৭.৫মিলিগ্রাম আয়রন। এছাড়াও, ডাল ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন B6 এর ভাল উৎস। সাথে পাবেন প্রতি ১০০ গ্রামে ৩০ গ্রাম ফাইবারও,কিন্তু এতে কোলেস্টেরল নেই একদমই।

১০)শুকনো ফল-
কিশমিশ কিংবা শুকনো এ্যপ্রীকট আয়রনের একটি ভাল উৎস। এছাড়া শুকনো ফলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য অত্যাবশ্যক ভিটামিন এবং ফাইবার থাকে। তাই স্ন্যাক্সের বদলে মুঠোয় তুলে নিন স্বাস্থ্যকর শুকনো ফল।

ডুমুর খাওয়া কেন ভালো আপনার জন্য?

অবহেলিত একটি ফল ডুমুর। ডুমুর খাওয়া হয় তরকারি হিসেবেও। ডুমুর খান আর না খান, ‘ডুমুরের ফুল’ বাগধারার কল্যাণে ডুমুরের নাম জানা সবারই। আজ জেনে নিন ডুমুরের কিছু উপকারিতার কথা।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস না থাকলেও প্রায়ই আমরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে থাকি। এসব প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণ মানে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে।

ডায়েটে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে গিয়ে সোডিয়ামের পরিমাণ গেলে হাইপারটেনশনের সমস্যা হতে পারে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, যারা স্ন্যাকস ও মিষ্টির পরিবর্তে ফল, সবজি ও লো ফ্যাট ডেইরি খাবার খান, তাদের ডায়েটে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে
খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ ডুমুর ওজন কমাতে সাহায্য করে। যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ আপনার উদ্দেশ্য হয় তাহলে খাদ্যতালিকায় ডুমুর রাখুন। ডুমুরে উপস্থিত পেকটিন রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ডায়াবেটিসের সমস্যায় উপকারী
ডুমুরের সাথে সাথে ডুমুরের পাতাও সমান উপকারী। ডুমুরের পাতার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক উপাদান। অনেক সময় ডায়াবেটিসের রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।

গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, ডুমুর এই ইনসুলিন গ্রহণের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ডুমুরের পাতার রস সকালের নাশতায় খেতে পারেন। ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ডুমুর খুবই উপকারী।

মেনোপজ পরবর্তী পর্যায়ের জন্য উপকারী
গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, মেনোপজ পরবর্তী পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে ডুমুর সাহায্য করে। খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ ডুমুর খাদ্যতালিকায় রাখার ফলে ৩৪% নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম দেখা দিয়েছে।

মেনোপজ পরবর্তী পর্যায়ে যেসব নারীরা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট পদ্ধতি নেওয়ার সাথে সাথে ডায়েটে সিরিয়াল ফাইবার রেখেছেন, তাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% কম দেখা গিয়েছে। আঁশসমৃদ্ধ ফল বেছে নেয়ার সময় হোল গ্রিন ফুড যেমন আপেল, ডুমুর, খেজুর বেছে নিন।

হাড় বৃদ্ধিতে সহায়ক
ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। নিয়মিত অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খেলে প্রস্রাবের মধ্যে দিয়ে ক্যালসিয়াম বের হয়ে যায়। ক্যালসিয়ামের এই লস প্রতিরোধ করতে ডুমুরের পটাশিয়াম সাহায্য করে। এই ভাবে ডুমুর হাড় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

হৃদপিণ্ড ভালো রাখে
গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, ডুমুর ও ডুমুরের পাতা ট্রাইগ্লিসারাইড লেভেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হার্ট ভালো থাকে। এ ছাড়া ডুমুরে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে ম্যাংগানিজ। খাদ্যতালিকায় ডুমুর রাখার চেষ্টা করুন। কারণ বয়সজনিত কারণে নানা অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে ডুমুর সাহায্য করে।

অন্যান্য উপকারিতা
ডুমুরে পানির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে থেঁতো করা ডুমুর ত্বক পরিষ্কার করার জন্য বিশেষ করে ব্রণ সারানোর জন্য সাহায্য করে। যাদের দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে তাদের জন্য ডুমুর উপকারী।

কারণ ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। পেটের সমস্যা দূর করতে ডুমুর খুব ভালো কাজ করে। দুর্বলতায় ভোগেন এরকম ব্যক্তির জন্য ডুমুর উপকারী। বিশেষ করে মুখ, জিভ বা ঠোঁট ফাটার সমস্যা ভীষণভাবে থাকলে তা নিরাময় করতে ডুমুর সাহায্য করে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যায় ডুমুর উপকারী।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে জরুরীভাবে যা করা উচিৎ

পরকালে কোন মানুষ কি অবস্থায় আছে তা একমাত্র আল্লাহ পাক ছাড়া কেউ বলতে পারে না। তবে অনেকেই ঘুমের মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখেন। ধরে নেয়া হয় স্বপ্নের মাঝে মৃত ব্যক্তিকে যে অবস্থাতে দেখা যায়, ওটাই তার প্রকৃত অবস্থা।
অর্থ্যাৎ যদি কেউ মৃত ব্যক্তিকে ভাল পোশাক পরা অবস্থায় বা সুস্বাস্থের অধিকারী দেখে, তাহলে বুঝতে হবে সে ভাল অবস্থায় আছে। আর যদি জীর্ণ, শীর্ণ স্বাস্থ্য বা খারাপ পোশাকে দেখে তাহলে বুঝতে হবে, ভাল নেই। তার জন্য তখন বেশি করে মাগফিরাত কামনা ও দোআ-প্রার্থনা করতে হবে।
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বিদ্রোহীরা যখন উসমান (রা)- এর বাসভবন ঘেরাও করেছিল, তখন উসমান (রা) বলেন, আমি গত রাতে স্বপ্ন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উসমান আমাদের সাথে তুমি ইফতার করবে। আর ঐ দিনই উসমান (রা) শহীদ হলেন। (আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)



আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, আবু মূসা আশ আশআরী (রা) বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি পাহাড়ের কাছে গেলাম। দেখলাম, পাহাড়ের উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রয়েছেন ও পাশে আবু বকর (রা)। আবু বকর (রা) তার হাত দিয়ে ওমর (রা) এর দিকে ইশারা করছেন। আমি আবু মূসা (রা) এ স্বপ্নের কথা শুনে বললাম, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। আল্লাহর শপথ! ওমর (রা) তো মারা যাবেন! আচ্ছা আপনি কি বিষয়টি ওমর (রা) লিখে জানাবেন?

আবু মূসা (রা) বললেন, আমি ওমর (রা) তার জীবদ্দশায তার নিজের মৃত্যু সংবাদ জানাব, এটা কি করে হয়? এর কয়েকদিন পরই স্বপ্নটা সত্যে পরিণত হল। ওমর (রা) শহীদ হয়ে গেলেন। কারণ, মৃত্যু পরবর্তী সত্য জগত থেকে যা আসে, তা মিথ্যা হতে পারে না। সেখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। (আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)

তাই মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে সর্বাবস্থায় জরুরিভাবে তাদের জন্য দো‘আ ও ছাদাক্বা করা উচিত। মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে (ক) ভাল স্বপ্ন- যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে (খ) শয়তানের পক্ষ থেকে- যা মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে (গ) নিজের খেয়াল ও কল্পনা- যা স্বপ্নে দেখা যায় (মুসলিম হা/২২৬৩)।

স্বপ্নে ভাল কিছু দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। চাইলে অন্যকেও সে বিষয়ে অবহিত করবে। আর খারাপ কিছু দেখলে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে, বাম দিকে তিনবার আঊযুবিল্লাহ বলে থুক মারবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে। কাউকে সে বিষয়ে বলবে না (বুখারী হা/৭০৪৫)।

২ লাখ টাকার অদ্ভূত কালো মোরগ অবাক বিশ্ববাসী

আমি যখন প্রথম শুনেছি তখন মনে হয়েছে ফান করছে আমার সাথে। যখন আমি শুনলাম একটি মোরগ এর দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দু লক্ষ টাকা পরে। শুনতে অবাক মনে হলেও শেষ পর্যন্ত যখন জানতে পারলাম তখন অবাকই হয়েছি। সত্যি এই পৃথিবী জুরে বিচিত্র নানা ধরনের পশু পাখির কোন অভাব নেই। প্রতিদিন নতুন নতুন জীব জন্তু, পশু পাখি আবিষ্কার হচ্ছে। তবে আজকে যে মোরগ নিয়ে আলোচনা করবো সেটার বাড়ি কিন্তু ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়াতে আইআম ছিমানি নামে কাল রং এর এক জাতের বিশেষ মোরগ রয়েছে যেটা পৃথিবীতে আর কোথাও দেখা পাওয়া যায় না। এই বিশেষ মোরগের জাত অন্য কোথাও দেখা মিলেছে এমনটা এখন পর্যন্ত কেউ শোনেনি। তাই এই বিশেষ মোরগ এর দাম এবং চাহিদা অন্য সকল মোরগের থেকে হাজারগুন বেশী। স্থানীয়ভাবে কাল রং এর এই বিশেষ মোরগকে আইআম ছিমানি নামে ডাকা হয়। যেটা বলার সুবিধার জন্য বাংলাদেশী হিসেবে আসমানী মোরগ বলতে পারি। যদিও আসমানের রংএর সাথে এর মাঝে মাঝে মিল পাওয়া যায় যখন বৃষ্টির আগে খুব কাল রংএর মেঘ দেখতে পাওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় ভাবে আইআম মানে মুরগী আর, জাপানী ভাষাতে ছিমানি অর্থ কুচকুচে কালো। এই রহস্যময় কাল জাতের মোরগ এর আদি নিবাস ইন্দোনেশিয়া এর জাভা প্রদেশে। এই মোরগের শুধু পালকই কাল নয় বরং এদের মাথা থেকে একদম পা পর্যন্ত সব কিছু কুচকুচে কাল। তার মানে পালক, মনি, ঝুঠি, ঠোট, নখ, পাও সবই কুচকুচে কাল।

স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই মোরগের মাংস অন্যান্য সকল মোরগের থেকে পুষ্টিকর ও উপাদেয়। তবে সবথেকে আশ্চর্য এর বিষয় হলো এই মোরগের মাংস থেকে শুরু করে নারি ভুরি, হার এবং ভিতরের শাস সব কিছুই কুচকুচে কালো রং এর হয়। অন্যান্য মোরগ মুরগীর সাথে এটার শুধু মিল এক যায়গায় আর সেটা হচ্ছে রক্তের রং। রক্ত রং অন্যান্য মোরগ মুরগীর মতোই লাল, তবে মাত্রায় অনেক বেশী গাঢ় হয়। ফলে নিখাদ টকটকে লাল এবং উজ্জল হয়।

উনিশ শত আটানব্বই সালের দিকে সর্ব প্রথম ইউরোপে এই জাতের মোরগের উদ্ভব হয়। এটি মূলত একটি হাইব্রিড প্রজাতির মোরগ। সৌখিন ব্যক্তি যারা মুরগি পালন করেন অথবা মোরগ যুদ্ধের আয়োজন করেন তাদের কাছে এই মোরগ অতিশয় জনপ্রিয়। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকায় এই মোরগের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আর এই জন্যই সে সব দেশে এই এক একটি মোরগের দাম হাকানো হয় প্রায় ২০০০ থেকে ২৫০০ ডলারের মতো। যেটা বাংলাদেশী টাকায় কনভার্ট করলে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো পরে।

Friday, 1 January 2016

নতুন বছরে প্রকাশেই ঝড় তুলল সানি লিওনির ‘রোম রোম রোমান্টিক’ (দেখুন ভিডিও সহ)

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে সানি লিওন, তুষার কাপুর এবং বীর দাশ অভিনীত মাস্তিজাদে সিনেমার ট্রেইলার। প্রকাশের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৩ লাখের বেশি দেখা হয়েছে এ ট্রেইলারটি। আজ মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির প্রথম গান।


‘রোম রোম রোমান্টিক’ শিরোনামের এ গানে তুষার কাপুর এবং বীর দাশকে দেখা গেছে লাইলা এবং লিলি অর্থাৎ সানি লিওনের সঙ্গে রোমান্স করতে। গানটিতে মাস্তিজাদে সিনেমার বহুল আলোচিত সানির ‘কার ওয়াশ’ দৃশ্যটিও রয়েছে।টি সিরিজের ব্যানারে প্রকাশিত গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিকা সিং এবং আরমান মালিক। ‘রোম রোম রোমান্টিক’ গানটি লিখেছেন মনোজ মুন্তাসির। সংগীত পরিচালনা করেছেন অমল মালিক।আগামী ২৯ জানুয়ারি, মাস্তিজাদে সিনেমাটি মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন প্রীতিশ নন্দি এবং রঙ্গিতা নন্দি। সিনেমাটির পরিচালক মিলাপ জাভেরি। অ্যাডাল্ট-কমেডি ঘরানার মাস্তিজাদে সিনেমায় লিলি এবং লাইলা চরিত্রে দেখা যাবে সানি লিওনকে। এতে একটি ক্যামিও চরিত্রে দেখা যাবে রিতেশ মুখকে।
https://youtu.be/CwOXzsDx7Vo

যে জিনিসটি সপ্তাহে ১বার ব্যবহার করলে থাকবে আজীবন যৌবনের নিশ্চয়তা

সৌন্দর্যের দিক থেকে জাপানিজ নারীরা সবসময়েই অনবদ্য। বিশেষ করে তাঁদের ঝলমলে চুল এবং নিখুঁত ত্বকের কারণে। এমন অনেক জাপানিজ চিত্রনায়িকা ও মডেলরা আছেন যাঁদের সত্যিকারের বয়স অনেক বেশি, কিন্তু দেখলে মনে হয় এখনও তরুণী! বিশ্বজুড়েই জাপানিজ নারীদের এই চিরতারুণ্য একটা রহস্যের বিষয় বৈকি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাঁদের এই তারুণ্যের পেছনে যে উপাদানটি সবচেয়ে বেশি কাজ করে তা হল ‘ভাত’। কি, অবাক হচ্ছেন? হ্যাঁ, জাপানিজদের বয়স ধরে রাখে ভাতের তৈরি একটি ফেস প্যাক। আসুন তাহলে জেনে নিই সেই জাদুকরী ফেসপ্যাকটির কথা,যে জিনিসটি সপ্তাহে ১বার ব্যবহার করলে থাকবে আজীবন যৌবনের নিশ্চয়তা।



উপকরণ
৩ টেবিল চামচ ভাত
১ টেবিল চামচ মধু
১ টেবিল চামচ গরম দুধ

-চাল সিদ্ধ করুন। অর্থাৎ ভাত রান্না করুন। এবার চাল থেকে পানি আলাদা করে ফেলুন বা মাড় ফেলে দিন।

-গরম ভাত চটকে নিন, নাহলে পরে শক্ত হয়ে যাবে। এর সাথে হালকা গরম বা উষ্ণ দুধ এবং মধু দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন।

-প্রথমে মুখ ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সম্ভব হলে কোন হালকা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
-মুখ শুকিয়ে গেলে ভাতের প্যাকটি মুখ ও ঘাড়ে ভাল করে লাগান।

-প্যাকটি শুকিয়ে গেলে ভাত সিদ্ধ পানি বা মাড় দিয়ে মুখ ও ঘাড় ধুয়ে ফেলুন।
-সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

যেভাবে কাজ করে
ভাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই যা ত্বককে ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে থাকে ও তারুণ্য ধরে রাখে। তার সাথে সাথে সানবার্নও প্রতিরোধ করে। এছাড়া এতে লিনোলিক এসিড যা ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। ভাতের মাড়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আছে যা ত্বকের পানির পরিমাণ বজায় রাখার পাশপাশি রক্ত চলাচল ঠিক রাখে।